আমার স্বামী হয়তো একটা ভুল করো ফেলেছে।

14192536_280820375635588_3965864299534324115_n

চাকরির সুবাদে সিনিয়র কলিগের সাথে প্রেম হয় এবং দুই পক্ষের অভিভাবকের অমতে আমরা লুকিয়ে বিয়ে করি এবং পরবর্তিকালে আমাদের বাবা মাকে না জানিয়ে স্বামীর প্রচন্ড ইচ্ছার কারনে তাদের বাসায় গিয়ে উঠি। মন থেকে না হলেও তারা আমাকে কোনো রকমে মেনে নেন। শ্বশুড় – শ্বাশুড়ির অবহেলার মাঝেও নিজেকে অসম্ভব সুখী মনে হতো স্বামীর প্রচন্ড ভালোবাসার কারনে। এক বছরের মধ্যে আমার প্রথম সন্তানের জন্ম হয় এবং এর এক বছর পর আমার স্বামীর। ভাইবোনদের মধ্যে বনিবনার কারনে আমাদের আলাদা করে দেওয়া হয়। নিজেদের সংসারে আমরা সুখেই ছিলাম। শুধু মাঝে মধ্যে সবার সঙ্গে না থাকতে পারাতে কষ্ট পেতাম। যাই হোক। যে কথা জানানোর জন্য আমার এই লেখা। নতুন বাড়িতে আসার আড়াই বছরের মধ্যে একদিন আমার সতেরো বছরের কাজের মেয়ের শরীর বেশ কিছু দিন থেকে খারাপ যাচ্ছে। কিছু খেতে পারছেনা, আর ওর মাসিক হচ্ছে না। ওকে গাইনি ডাক্তার দেখালাম। ডাক্তার পরীক্ষা করেই বললো, সে ছয় মাসের অন্ত:সত্তা। শুনে ঘাবরে গেলাম। কি হলো ? এই অবস্খায় কি করবো ? তখন আমার স্বামীও দেশে নেই। কাজের মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলাম, কিভাবে হলো কার সাথে তোর সর্ম্পক । ও কোনো উত্তর দেয় না। ভাবলাম আমাদের দারোয়ান বা ড্রাইভারের সাথে সর্ম্পক হতে পারে।অনেক সময় ওকে একা রেখে আমরা সাড়াদিনের জন্য বাইরে থাকি, তখন হয়তো এই ঘটনা ঘটিয়েছে। যখন ওকে ডেকে আবার জিজ্ঞাসা করলাম, সত্যি করে বল নয়তো তোকে তোদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেবো। এই কথা শুনে সে সাথে সাথে আমার পা ধরে বললো, আমাকে বাড়িতে পাঠাবেন না খালাম্মা, এই অবস্খায় দেখলে আমার আব্বা আমাকে মাইরা ফেলবেন। গত এক বছরে সে বাড়িতেও যায়নি, বাড়িতে পাঠানোর কথা শুনে সে সত্যি কথা বললো। আমার এই অবস্খা খালু করেছে, আমি বললাম কোন খালু ! সে বল্লো এই বাসার খালু মানে, আপনার স্বামী। তার কথা শুনে আমার পুরো শরীর অবশ মনে হচ্ছিল। এবং আস্তে আস্তে আমার পায়ের মাটি সরে যাচ্ছে কোনোমতে নিজেকে সামলিয়ে রুমে এসে বসলাম। আমার এখনো ওর কথা বিশ্বাস হচ্ছে না। হয়তো ও কোনো সুবিধা আদায়ের জন্য আমার স্বামীর ওপর দোষ চাপাচ্ছে। কারণ ও দেখতে ভালো না, আমার স্বামীর যে চাকরি করেন তার চারপাশে প্রচুর সুন্দরী মহিলা এবং চাকরির সুবাদে তাকে প্রচুর দেশ বিদেশ ভ্রমন করতে হয়। এতো সুযোগ থাকতে সে কেনো একটা কাজের মেয়ের প্রতি আসক্ত হবে। এই অভিযোগ আমি মেনে নিতে পারলাম না। যখন ওকে আবার জিজ্ঞাসা করলাম তখনো একটা পর একটা ঘটনার বর্ণনা দিতে লাগলো। যা কিছু কিছু বর্ণনার সঙ্গে মিলে যেতে লাগলো। কারন রাতে শোবার পর প্রায়ই আমার স্বামী উঠে চলে যেতো। বলতো, ঘুম আসছে না যাই টিভি দেখি। আমার প্রায়ই মনে হতো আট দশ দিন পর বিদেশ থেকে এসেও টিভি দেখার নেশা। এ কথাই কাজের মেয়ে বললো, সে রাতে উঠে এসে ওকে নিয়ে ভিসিআর এ সেক্র মুভি দেখতো। বাইরে থেকে আনা সেই সব ক্যাসেট দেখার পর তারা দুজনে মিলিত হতো। আমি যখন বাচ্চা নিয়ে স্কুলে থাকতাম তখন তারা আমার বেড রুমে এক সাথে থাকতো। আমাদের কিছু দিনের জন্য লন্ডনে যাওয়া হয়েছিল। আমাকে ওর এক আত্নীয়র বাসায় রেখে এসেছিল। তখন ওরা ঢাকায় অঘোষিত স্বামী স্ত্রীর মতোই বামায় থাকতো। এভাবে প্রায়ই ওরা এক সঙ্গে থাকতো যা আমি কখনোই বুঝতে পারি নাই। মাঝে মধ্যে আমার স্বামীর দুই একটা কাজ বা কথার্বাতায় একটু অন্য রকম মনে হতো। কিন্তু আমার স্বামীকে এতো বিশআস ও শ্রদ্ধা করতাম যে, কোনোদিন এই চিন্তা আমায় মনে আসে নাই। কাজের মেয়ের সাথে সর্ম্পক ! অসম্ভব। ছয় মাসের অন্ত:সত্তা কাজের মেয়েকে পরিচিত ডাক্তারের মাধ্যমে ক্লিনিকে ভর্তি করালাম। ডাক্তার বললো ছয় মাসের বাচ্চা নষ্ট করা যাবে না। ডেলিভারী করাতে হবে। এতে খরচ ও জীবনের ঝুকি দুই আছে। অবশেষে জীবনের ঝুকি নিয়ে দুই ব্যাগ রক্ত দিয়ে সুন্দর ফুটফুটে একটা ছেলে সন্তান জন্ম নিল। যেহেতু আমরা বাচ্চাটা চাইনা সেহেতু কোনো রকম যত্ন না নেয়াতে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বাচ্চাটা মারা গেল। এই ঘটনার একদিন পর আমার স্বামী বিদেশ থেকে এসে কাজের মেয়েকে না দেখে জানতে চাইলো, সে কোথায় ? আমি যখন কাজের মেয়ের প্রেগনন্সির কথা, ওর কষ্টকর ডেলিভারীর কথা বললাম, সে এমন ভাব করলো যে কিছুই যানেনা। ওকে খুব অস্খির মনে হলো, অথচ তার মধ্যে কোনো অপরাধ বোধ বা লজ্জা প্রকাশ পেলো না। কিন্তু তার এই পাপের জন্য সর্বোপরি কাজের মেয়েকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং নিস্পাপ বাচ্চাটাকে পৃথিবীর আলো দেখতে না দেয়ার এই অপরাধ বোধ আজও আমাকে কষ্ট দেয়। এভাবে তার এতো বড় পাপ আমার বুকের ভিতর পাথর চাপা দিয়ে রাখবো, আর স্বামীকে রক্ষা করলাম। এবং কাজের মেয়েকে সেবা যত্ন কওে কয়েকদিন পর তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। শুধু এই ভেবে যে, আমার স্বামী হয়তো একটা ভুল করো ফেলেছে।


আþেত আসেæ নিজের মনকে যখন একটু সামলে নিলাম তখনই আবারও একই ঘটনা। যদিও আমার স্বামী ওই ঘটনাটি অস্বীকার করেছিল তবুও ওর কথাবার্তায় এবং আচরনে আমি বুঝে ছিলাম যে এটা ওর কাজ। এরপরেও অনেক গুলি কাজের মেয়ে ও মহিলা বদল করেছি। কারন তাদের সবার একটাই কমপ্লেইন যে আমার সাহেবের নজর ভালো না। আমি বাসায় না থাকলে তাদের বিরক্ত করেন। রুমে ডাকে, এছাড়া প্রায় রাতে আমি ঘুমিয়ে গেলে ওদের কাছে চলে আসে। যারা একটু ভালো স্বভাবের তারা কাজ করবে না বলে চলে যেতো। এরকম রকম নোংড়া রুচির লোকের সাথে এতোটা বছর বসবাস করে নিজেই মানসিকভাবে অসুস্খ্য হয়ে গেছি। এখন আমার নিজের ওপর ঘৃনা হয়। ও যখন আমাকে ছোয়, আদর করার ভান করে তখন নিজেকে ওই কাজের মেয়েদের মতো মনে হয় যে ওদের সাথেও এমনভাবে ভালোবাসা খেলার অভিনয় করতো। আসলে ওর মনে ভালোবাসা বলে কিছুই নেই। শুধু নারীর শরীর নিয়ে খেলা করতে জানে। যা আমার মতো একটা সাধারন মেয়ে ওর ভন্ডামি বুঝতে পারিনি। অথচ এই আমি আমার স্বামীর ভালোবাসায় নিজেকে পূর্ণ মনে করে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা যতটা ছিল। এখন তারচেয়ে বেশী ঘৃর্না ও অসস্মান নিয়ে তার সঙ্গে সংসার করছি শুধু আমার দুটো সন্তানের মুখ চেয়ে। এবং নিজেও যে এতো মানসিকভাবে বির্পযস্ত মাঝে মধ্যে মনে হয় আত্নহত্যা করি। কিন্তু পারি না

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s